কিশোরগঞ্জের ভৈরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন সন্দেহে ৩৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ৩৪ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। তারা সবাই বিদেশ ফেরত। তাদের মধ্যে ইতালি ফেরতের সংখ্যাই বেশি।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জন শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভৈরবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত সোমবার প্রথমে ভৈরবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন সন্দেহে ১১ জন কে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
এরপর দিন মঙ্গলবার আরো ১৩ জন ও বুধবার আরো ১০ জন কে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এই নিয়ে গত তিন দিনে ৩৪ জনকে ভৈরবে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
তাদের প্রত্যেক কে নিজ বাড়ির পৃথক কক্ষে নিবীড় পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা কমপক্ষে ১৪ দিন থাকবে। ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় বাহিরে চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে।
জানা যায়, ভৈরবে ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানা সভাপতি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ সদস্য সচিব করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন সন্দেহে যাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারীরা।
উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ট্রমা সেন্টারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিটের সকল কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে শয্যা সরবরাহ করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন রোগীকে এখনো সেই আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়নি। তবে বুধবার রাতে এখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন সন্দেহে যারা আছে তাদের রাখা হতে পারে বলে জানা যায়।
এলআরআর/এইচএস