নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বলেছেন, দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে।
আজ রাজধানীর ইস্কাটনে কেয়ারারস এ্যালায়েন্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক কেয়ারারস দিবস ২০২৬’ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বহুমুখী সমস্যার সমাধানে সরকার আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছেলে, মেয়ে, এনডিডি (নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ) কিংবা নন-এনডিডি নির্বিশেষে সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য সরকারি চাকরিতে তাদের প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করার প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি মালিক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত অভিভাবকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, সন্তানদের পরিচর্যা করতে গিয়ে যেসকল পিতা-মাতা কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন না, তাদেরকে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও কাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ (টুলস) দিয়ে স্বাবলম্বী করা হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকার কেবল আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চায় না, বরং টেকসই পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে চায়।
দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষাদানের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষকের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য মাত্র একটি সরকারি কলেজ রয়েছে। সরকার এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার্য বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ তৈরির সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরো আধুনিকায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ও ক্রীড়াবিদরা যাতে সাফল্য বয়ে আনতে পারেন, সেজন্য সাভারে আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক কেয়ারার অংশগ্রহণ করে তাদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং একটি সমন্বিত ‘জাতীয় কেয়ারার কাঠামো’ গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।
কেয়ারারস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মোঃ কামরুজ্জামান দুলাল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশেষ চাহিদ সম্পন্ন শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।
টিআই