হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগের নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান পল্লবী। আজ সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৬৭ ফ্লাইটে চীনের গুয়াংজু থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাঁকে আটক করা হয় বলে সূত্র বলছে।
তবে পল্লবীর এই আটককে ঘিরে সামনে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চীন থেকে দেশে ফেরার আগে তিনি থাইল্যান্ড সফর করেন। সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশ্ন উঠেছে, থাইল্যান্ডে কার সঙ্গে কী নিয়ে বৈঠক করেছিলেন তিনি? সেই বৈঠকের নেপথ্যে কি ছিল কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনা?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পল্লবীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় একটি দেশের একাধিক কর্মকর্তা এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি কোন গোপন পরিকল্পনা বা সমন্বয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেশত্যাগের প্রক্রিয়া ঘিরে। একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুলিশের একটি অংশ তাঁকে দেশত্যাগে সহযোগিতা করেছে। অথচ এর আগে ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্টে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে,হয়ত কারো সহযোগিতায় রহস্যজনকভাবে সেই তালিকা থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহার করা হয়।
এখানেই শেষ নয়। একই প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির আরও একাধিক নেতা-কর্মী নিজেদের নাম ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্ট থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তাহলে কার নির্দেশে স্টপ লিস্ট থেকে নাম সরানো হয়েছিল? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল? বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ভেতরে কি কোনো সংঘবদ্ধ সহযোগী চক্র সক্রিয়? আর পল্লবীর বিদেশ সফর ও কথিত যোগাযোগের পেছনে আসলে কী পরিকল্পনা ছিল?
একজন ব্যক্তির আটক হওয়ার ঘটনা থেকে এখন সামনে আসছে ইমিগ্রেশনের স্টপ লিস্ট ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিদেশযাত্রা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন।
বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পল্লবীর বিদেশ সফর, কথিত বৈঠক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং স্টপ লিস্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং প্রশাসনের ভেতরে কারা সহযোগিতা করেছে, তা জনসমক্ষে আনা এখন সময়ের দাবি বলে ও জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
-টিএস