জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের অর্ধেক নিহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা পার হলে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের পর সাজা কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনাসহ ১১ থেকে ১২ জন আসামি ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করেননি। ফলে তারা আপিল করবেন না বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা যাতে তাদের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারেন, সে জন্য সম্পত্তিগুলো সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে ট্রাইব্যুনাল। সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের অর্ধেক নিহতদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সাজা কার্যকরের বিষয়ে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় নির্ধারিত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তী সময়ে আপিলের সুযোগ থাকে না।
তিনি বলেন, আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের সাজা কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তাদের গ্রেপ্তার করা হলে দণ্ডাদেশ কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। এসব মামলায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে অনেকে এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার, সাজা কার্যকর এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এফএস