শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। সূত্রটির দাবি, আন্দোলন থেকে ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ছাত্রলীগের পদধারী কয়েকজন নেতাকর্মীকে আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলামও শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন।
রোববার দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে একটি ছবি পোস্ট করে সাজিবুল লেখেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারো ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসবে না। আমরা জনগণের শক্তি সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব।’ এর ৫১ মিনিট আগে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এর আগে দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে আরেকটি ভিডিও এবং সকাল ১০টা ৬ মিনিটে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শ্রমিকের বেতন ৩০০০০ বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আজকেও শ্রমিক আন্দোলন চলছে।’
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাজিবুল। ভিডিওতে ‘৩০ হাজার বেতন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগান শোনা যায়।
গত চার দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। শুরুতে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন হিসেবে দেখা হলেও, সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
গতকাল সকালে রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এর আগে মিরপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী ১১ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আজ সকাল থেকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং সড়কে আগুন জ্বালান। এ সময় ব্যাংক, যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।