বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইনান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি (৬.৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ২০ মিনিটের এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ওয়ালেটগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা বাইনান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী ডিজিটাল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই চুরি চালায়। প্রাথমিকভাবে একজন কর্মকর্তার ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও পরবর্তী তদন্তে নিরাপত্তাব্যবস্থার একাধিক দুর্বলতা পাওয়া যায়।
বাইনান্সের কো-সিইও রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিষ্ঠানের ১ বিলিয়ন ডলারের সুরক্ষা তহবিল ও নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করা হবে।
চুরি হওয়া অর্থের প্রায় অর্ধেক স্টেবলকয়েন হওয়ায় টেথার, সার্কেল, রিপলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ফ্রিজ করেছে। তবে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের বিটকয়েন ও ইথার এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব সম্পদ কেন্দ্রীয়ভাবে ফ্রিজ করা সম্ভব নয়।
হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করছে কয়েকটি মার্কিন ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান। তাদের মতে, গত বছর বাইবিট এক্সচেঞ্জে চালানো হামলার সঙ্গে বাইনান্সের হামলার মিল রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাইনান্স আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়ী করেনি।
এ ঘটনায় বড় ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।