রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রসাটম।
এ ইউনিটের জন্য ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি সাতটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রসাটমের ফুয়েল ডিভিশনের অধীন নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির সাম্প্রতিক চালানটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর আগে, গত ২৬–২৭ অক্টোবর জ্বালানিবাহী একটি বিশেষ উড়োজাহাজ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে জ্বালানি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত তিনটি ট্রাকে সেগুলো রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানির কনটেইনারগুলো নির্ধারিত তাজা পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণাগারে রাখা হয়। রিঅ্যাক্টরে ব্যবহারের আগে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলিকে বাধ্যতামূলকভাবে চাক্ষুষ ও যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হবে। জ্বালানির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক নিরাপত্তার শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতেই এ পরীক্ষা করা হবে।
বাংলাদেশ, প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারকের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা পরিচালনা করবে। এ ক্ষেত্রে পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তার বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
এর আগে, প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। ২০২৬ সালে ইউনিট-১-এর ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর কোরে জ্বালানি লোডিংয়ের পর রিঅ্যাক্টরটি এ মাসে সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছায়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরুর আগে ইউনিট-১-কে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শক্তি বৃদ্ধির পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে রাশিয়ার নকশায় নির্মিত দুটি জেনারেশন-৩+ ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পটির প্রধান নকশাকারী ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
এসএস