ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বর্ণিল সাজে সেজেছে তীর্থস্থান,ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব বৃহস্পতিবার-শুক্রবার
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্মপল্লীতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ও শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ফাতেমা রাণীর ২৯তম বার্ষিক তীর্থোৎসব। ‘মানবতার জননী ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ মূলসুরকে সামনে রেখে আয়োজিত এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ইতোমধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো তীর্থস্থান এলাকা। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় আয়োজিত এই তীর্থোৎসব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ খ্রিস্টান ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক তীর্থযাত্রী এ উৎসবে অংশ নেন। এবারও বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

জানা যায়, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্মপল্লী। পর্তুগালের ফাতেমা নগরের আদলে ও অনুকরণে ১৯৯৮ সাল থেকে স্থানটিকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।

তীর্থস্থানটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৪৮ ফুট উচ্চতার মা মারিয়ার মূর্তি। এর সামনে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। তীর্থোৎসবের দিন দেশ-বিদেশ থেকে আগত খ্রিস্টভক্তরা সমবেত হয়ে মা মারিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রার্থনায় অংশ নেবেন।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আলোক শোভাযাত্রা। এ শোভাযাত্রায় হাজার হাজার তীর্থযাত্রী মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পাহাড়ি ক্রুশের পথ অতিক্রম করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের সূচিতে রয়েছে পুনর্মিলনী প্রার্থনা, সান্ধ্যকালীন খ্রিস্টযাগ, সাক্রামেন্টের আরাধনা, নিশিজাগরণ, জীবন্ত ক্রুশের পথ ও মহাখ্রিস্টযোগসহ নানা ধর্মীয় আয়োজন।

এবারের তীর্থোৎসবে প্রধান পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ময়মনসিংহ খ্রিস্টধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেল পৌল কুবি সিএসসি।

তীর্থোৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে চার শতাধিক পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন এপিবিএন সদস্য থাকবেন। পাশাপাশি এসআরবি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের নিয়মিত টহল থাকবে। পুরো খ্রিস্টধর্মপল্লীকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখা হবে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বানোয়ারী বলেন, “আবহাওয়া ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তীর্থোৎসব সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।”

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “তীর্থোৎসব ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে পুলিশ এবং এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এসআরবি ও বিজিবির নিয়মিত টহল থাকবে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে তীর্থোৎসব শুরু ও শেষ করতে পারেন, সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।”

   এমএস / এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝
Advertisement