দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব চেয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রথম দিনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। এসময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে হালকা প্রকৌশল শিল্পেও বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেও জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগ অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও জাইকার সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
সাসাকাওয়ার আয়োজনে নৈশভোজ
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির শেষ পর্বে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজনে নৈশভোজে অংশ নেন তারেক রহমান।
হুমায়ুন কবির বলেন, ইয়োহেই সাসাকাওয়া জাপানের নাগরিক সমাজের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি আগে বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশ সফরের সময়ই প্রধানমন্ত্রী জাপান গেলে তাঁকে আতিথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন সাসাকাওয়া। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
এতে সাসাকাওয়ার দুই ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও নৈশভোজে অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ বেড়েছে। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক নীতি ও নীতিনির্ধারণী অবস্থান সম্পর্কে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশীজনদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের কারণেও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে। জাপান সফর ঘিরে দেশটির বিভিন্ন মহলের আগ্রহ এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তারই প্রতিফলন। সফরের বাকি তিন দিনেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
সহায়তার বদলে বিনিয়োগ অংশীদারত্বে গুরুত্ব
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের যেসব সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর সেগুলো নতুন করে উন্মুক্ত হচ্ছে। ওই সময়ে আস্থার সংকট ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এখন জাপান স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর শুধু বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চায় না। দেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং বিনিয়োগের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে টেকসই বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।
এসএস