ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
যুবদল নেতা শাকেরের মৃত্যুর কারণ শনাক্তে ব্যর্থতা: চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, গ্রেপ্তার ২
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িকভাবে হাসপাতালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির।

এদিকে, শাকের হোসেন হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম লুবনা (৩১) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হন শাকের হোসেন (৩৯)। পরে তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান প্রাথমিকভাবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গোসলের প্রস্তুতিকালে স্বজনেরা শাকেরের মাথার পেছনে একটি ছিদ্র দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, নিহতের মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর শাকেরের মৃত্যুর পেছনে গুলির বিষয়টি সামনে আসে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিহতের স্বজনেরা। এ বিষয়ে তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির জানান, যুবদল নেতা শাকেরের মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইনুল হাসানকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।


শাকের হোসেন হত্যা মামলায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রনি শিকদারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়নি।

গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, নিহত শাকেরের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


 মো. ইউনুছ আলী /  এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement