ভালো ঘুমের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমের ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। নিয়মিত হাঁটাচলা এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মধ্যে বিরতি নিয়ে দাঁড়ানোর মতো হালকা শারীরিক কার্যকলাপও ঘুমের মান ও পরদিনের মেজাজ ভালো থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের গবেষকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি অ্যান্ড হেলথ’ সাময়িকীতে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর সায়েন্সডেইলিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
নিয়মিত ব্যায়ামেই ঘুমের উন্নতির সম্ভাবনা
গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েক মাসের শারীরিক কার্যকলাপ ও ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ জন্য অংশগ্রহণকারীরা ফিটবিট নামের একটি শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করেন। গবেষকেরা দেখেছেন, সপ্তাহে মোট কত সময় ব্যায়াম করা হচ্ছে, তার পাশাপাশি কত দিন শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা হচ্ছে, তা ঘুমের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত।
গবেষণায় দেখা যায়, যারা তুলনামূলক বেশি দিন শারীরিকভাবে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের গভীর ও পুনরুদ্ধারমূলক ঘুমের পরিমাণও বেশি হওয়ার প্রবণতা ছিল। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গেও ভালো ঘুমের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যায়ামে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত হয়, তবে কথা বলা সম্ভব থাকে। অর্থাৎ, এর জন্য প্রতিদিন কঠিন বা দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।
হাঁটাচলা ও বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণায় শুধু জোরে ব্যায়াম নয়, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মধ্যে বিরতি নিয়ে দাঁড়ানোর মতো হালকা কার্যকলাপের সঙ্গেও স্বাস্থ্যকর ঘুমের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিয়মিত সক্রিয় থাকা অংশগ্রহণকারীদের পরদিন তুলনামূলক বেশি কর্মশক্তি ও কম মানসিক চাপ অনুভব করার প্রবণতাও দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, গভীর ঘুম স্মৃতি সংরক্ষণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর ও মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক বোঝা জনস্বাস্থ্যের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিদিনের ব্যায়াম কি ঘুমের জন্য বেশি উপকারী?
বর্তমান স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় সাধারণত সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয়, পুরো সপ্তাহের ব্যায়াম এক বা দুই দিনে না করে নিয়মিত বিভিন্ন দিনে ছড়িয়ে দিলে ঘুমের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। ফলে নিয়মিত ব্যায়াম সরাসরি ঘুমের উন্নতি ঘটায়। এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ব্যায়াম ছড়িয়ে করার সঙ্গে এক বা দুই দিনে করার তুলনামূলক প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ছোট অভ্যাসেই শুরু হতে পারে পরিবর্তন
গবেষণার মূল বার্তা হলো, ভালো ঘুমের জন্য নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটা, হালকা ব্যায়াম করা কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানো দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ করা যেতে পারে।
তবে প্রতিদিন ১০ মিনিট ব্যায়াম করলেই সবার গভীর ঘুম নিশ্চিত হবে, এমন নয়। গবেষণাটি মূলত শারীরিক কার্যকলাপ ও ঘুমের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সূত্র: সায়েন্সডেইলি, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন।