চোখের পেছনের অংশ থেকে তরল ও বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যাওয়ার নতুন একটি পথের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে তাঁরা এই নিষ্কাশনব্যবস্থা শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের আশা, এ আবিষ্কার গ্লুকোমাসহ চোখের বিভিন্ন রোগের কার্যকারণ বুঝতে এবং ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়তা করতে পারে।
গবেষণায় শনাক্ত হওয়া এই পথের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পোস্টেরিয়র অকুলার লিম্ফ্যাটিক আউটফ্লো’ বা ‘পোলো’ (POLO)। এর মাধ্যমে চোখের পেছনের অংশ থেকে তরল ও বর্জ্য পদার্থ শরীরের লসিকাব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারে।
চোখের রেটিনা দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশে বিপাকীয় কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। সেগুলো যথাযথভাবে অপসারিত না হলে চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এত দিন চোখের পেছনের অংশ থেকে এসব পদার্থ নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা সীমিত ছিল।
গবেষকেরা উন্নত চিত্রায়ণ প্রযুক্তি ও অণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইঁদুরের চোখে তরলের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেন। এতে চোখের পেছন থেকে তরল বেরিয়ে যাওয়ার একটি পথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। নতুন এই পর্যবেক্ষণ চোখের তরল চলাচল ও বর্জ্য অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশা, আবিষ্কারটি গ্লুকোমা ও বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগ নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। চোখের ভেতরে তরলের ভারসাম্য এবং বর্জ্য অপসারণের প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে এসব রোগের পেছনের জৈবিক কারণ অনুসন্ধান সহজ হতে পারে।
তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইঁদুরের ওপর পাওয়া ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই এই আবিষ্কারকে চোখের রোগের নতুন চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং চোখের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সায়েন্স ডেইলি / এফএস