কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অটোরিকশাচালক সুমন তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর তাজমিনের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে যান সুমন। এরপর ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। পরে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান। ওই এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।
তদন্তের একপর্যায়ে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৮ অক্টোবর রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। ভাড়া ঠিক হয় ৩০০ টাকা। পরে চালক সুমন শর্টকাট পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।