ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
গাইবান্ধায় মাটির প্রতিমায় প্রাণের ছোঁয়া, ৬২৮ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

শিল্পীর হাতে তুলির আঁচড় ও সূক্ষ্ম কারুকাজে ধীরে ধীরে দেবীর অবয়ব ফুটে উঠছে । দিনের আলো ফোটার সঙ্গে শুরু হওয়া এই ব্যস্ততা গড়াচ্ছে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতেও। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে গাইবান্ধার মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

জেলার ৬২৮টি মন্দির ও মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, কোথাও আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। আয়োজকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিজেদের দায়িত্ব গুছিয়ে নিতে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাইবান্ধা সদরে ১০৫টি, সাদুল্লাপুরে ১১৩টি, গোবিন্দগঞ্জে ১৩৪টি, ফুলছড়িতে ১৪টি, সাঘাটায় ৬৪টি, সুন্দরগঞ্জে ১৩৯টি এবং পলাশবাড়ীতে ৫৯টি মন্দির-মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিমাশিল্পী দ্বীপ মহন্ত বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাটির কাজ থেকে শুরু করে রং ও সাজসজ্জা প্রতিটি ধাপেই সময়, শ্রম ও মনোযোগ প্রয়োজন। পূজার আগেই প্রতিমা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে আয়োজকদের হাতে তুলে দিতে পারলেই তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

মণ্ডপে মণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কোথাও সাজসজ্জার কাজ শেষ করা হচ্ছে, কোথাও বসানো হচ্ছে আলোর ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে মণ্ডপে আসতে পারেন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা।

আরাজী জামালপুর মন্দির কমিটির সভাপতি কাজল দেব শর্মা বলেন, তাদের মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সবাই যেন উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পূজার কয়েকটি দিন মণ্ডপগুলোতে নানা বয়সের মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে মণ্ডপগুলো পরিণত হয় মিলনমেলায়।

গাইবান্ধা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিরতী রঞ্জন বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করবেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় পূজার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। সবার সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর নবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

এখন অপেক্ষা শুধু উৎসবের সেই মুহূর্তের। প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, মণ্ডপে শেষ সাজসজ্জা আর ঢাকের বাদ্যির অপেক্ষায় গাইবান্ধার ৬২৮টি মন্দির-মণ্ডপ। শরতের সাদা মেঘ আর কাশফুলের আবহে ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে উঠছে জেলার পূজামণ্ডপগুলো।

টিএইচ/এসএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement