কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী জাফর উল্লাহর ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার অবরুদ্ধ করতে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর এবং বেহাত হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকায় এই সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণের নিমিত্তে আবেদন দাখিলের জন্য কমিশন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকা থেকে কাজী জাফর উল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহসহ ৬ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এছাড়া দুদকের মামলায় চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
অবরুদ্ধের আবেদনে নথিতে কাজী জাফর উল্লাহর নামে মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের পিএলসি হিসাবে থাকা অর্থের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট অর্থ প্রায় ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ২৯৫ টাকার তথ্য জানিয়েছে দুদক।
অন্যদিকে তার স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্লাহর নামে মিডল্যান্ড ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ২৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫ টাকা রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে থাকা অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ টাকা।
আরেক ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে মেঘনা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৯ টাকা বা ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থাকার তথ্য রয়েছে।
মেয়ে কাজী আফসকা মেহেরিন জাফরের নামে মেঘনা, মিডল্যান্ড ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫০৫ টাকা থাকার তথ্যও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা এবং ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টি আই