যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই লন্ডনের বাসিন্দা।
ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি গাড়ির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর রোববার ভোরে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই ব্যক্তি কয়েকটি গাড়ি দেখতে পান এবং মুখোশ পরা কয়েকজনকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান।
ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল পাঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানঘাঁটির আশপাশের প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৮৫টি পরিবারকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং হামলার পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত যেকোনো ব্রিটিশ ঘাঁটি তাদের বৈধ লক্ষ্য হতে পারে। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও ইরানের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে লন্ডনে ইরানি দূতাবাস পাঁচজনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে তেহরানের কোনো সংশ্লিষ্টতার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নজরদারিতে রেখেছিল এবং তারা বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দার দেওয়া তথ্যই পুলিশের অভিযানের সূত্রপাত ঘটায়। অভিযানটি আগে থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের লন্ডন দূতাবাস যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটির গুরুত্ব রয়েছে।
সাম্প্রতিক ইরান-সংঘাতের সময়ও এখান থেকে বি-১ বোমারু বিমান পরিচালিত হয়েছে। মার্চে যুক্তরাজ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড ব্যবহার করে অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়।
ব্রিটিশ সন্ত্রাস দমন পুলিশের কর্মকর্তা ভিকি ইভান্স বলেছেন, ঘটনাটির তদন্ত জটিল ও ব্যাপক। তদন্তে নতুন একাধিক সূত্র পাওয়া গেছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।