রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৪৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। রাত ৮টা ও ৯টায়ও ঘাটতি ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৫৯২ ও ১ হাজার ৫৭২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৩৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সাবস্টেশন প্রান্তে সরবরাহ করা হয় ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৭২ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতের চিত্র
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ১৩৬টি। এর মধ্যে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অবসরপ্রাপ্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ। ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। চলতি বছরের ২০ মে দেশে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়।
দেশে মোট সঞ্চালন লাইনের দৈর্ঘ্য ১৮ হাজার ৮১৭ সার্কিট কিলোমিটার। গ্রিড সাবস্টেশনের মোট ক্ষমতা ৯২ হাজার ৬৮৬ এমভিএ। প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সক্ষমতা রয়েছে ২ হাজার ৬৯৬ মেগাওয়াট।
আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতায়িত বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৬ দশমিক ১২৮ কিলোমিটার। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর হার ১০০ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৬৮০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।
একই সময়ে দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৩। সেচ সংযোগ রয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ১০৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস ছিল ৭ শতাংশ।
এফএস