দেশের ক্রমবর্ধমান প্রোটিনের চাহিদা পূরণ এবং টেকসই ও সাশ্রয়ী মৎস্য ও পশু খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূণর্ ভুমিকা পালন করছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান অধিক লাভের জন্য গুনগত মাণের পণ্য উৎপাদন করছেন না। সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অভিযানের মাধ্যমে ১১৭ টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নত করেছে। তাদের বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (FIAB) এবং ইউ.এস, সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (USSEC)-এর যৌথ উদ্যোগে "Feed for Growth: Supporting Bangladesh's Protein Demand" শীর্ষক এই সেমিনারে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারীদের জন্যই এই সেক্টর টিকে আছে। বর্তমানে খামারিদের অন্যতম দাবি হচ্ছে ফিড বা খাদ্যের দাম সহনীয় করা। এজন্য তিনি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চেয়েছেন। পাশপাশি তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ফিডের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক মুক্ত নিরাপদ প্রোটিন উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আজ একটি মিটিং ছিল। সেখানে তিনি পোল্ট্রি সেক্টরের উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এই সেক্টরকে রপ্তানিমুখী করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সেক্টরের উন্নয়নে দেশেই প্রয়োজনীয় টিকা উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন।
এসময়ে তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে প্রাণিজ প্রোটিনের ভূমিকা অপরিসীম। তবে নিরাপদ ও মানসম্মত প্রোটিন উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত ফিড। খাদ্যের উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রোটিন সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে আমাদের সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে 'প্রিসিশন নিউট্রিশন' (Precision Nutrition) ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকে জোর দিতে হবে।"
এর আগে সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন FIAB-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, "বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও কাঁচামালের দামের ওঠানামার মুখে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ হতে হবে। প্রিসিশন ফর্মুলেশন ও উন্নত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।" অনুষ্ঠানে সয়াবিন ও প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন USSEC-এর বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান, ইস্ট এশিয়া অ্যাকুয়াকালচার লিড লুকাস মানোমাইটিস, জনাব ঝু এনহুয়া (জো) এবং জনাব সিয়াং পিন ল্যান শান।
সেমিনারে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশাম বি. শাহজাহান। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপুষ্টি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান শিশির, এগ্রো সল্যুশনের অ্যাকুয়াটিক এনিম্যাল নিউট্রিশন কনসালটেন্ট অং থোয়েন এ এবং বাংলা-ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের সিইও মোঃ জাহিদুল ইসলাম পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্যের আধুনিক ফর্মুলেশন, খরচ সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং টেকসই পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টেকনিক্যাল পেপার উপস্থাপন করেন।
সেমিনারটির সমাপ্তি টেনে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেডের এসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সেমিনারের কারিগরি দিকনির্দেশনা ও নীতিগত পরামর্শগুলো বাংলাদেশের ফিড সেক্টরকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে দেশের পোল্ট্রি, লাইভস্টক ও অ্যাকুয়াকালচার খাতের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা, দেশি-বিদেশি পুষ্টিবিদ, গবেষক এবং নীতি নির্ধারকগণ অংশ নেন।
টিআইএস