জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের দুটি পৃথক ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা চলমান, টার্ম ফাইনাল বা নির্ধারিত কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে গত রোববার অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোররাত ৩টা পর্যন্ত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পাশের ‘মনপুরা’ এলাকায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়রদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের ওপর আরোপিত মোট জরিমানার পরিমাণ ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
এর মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে। মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরের শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে রাত ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল ও কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট জরিমানার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের এ জরিমানা করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা কিংবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আরএন