ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আসিফের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে: দুদক সচিব
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ মনগড়া নয়।  তার বিরুদ্ধে যেসব দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে রয়েছে, সত্যতার খোঁজে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব সাইদুর রহমান খান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক সচিব বলেন, অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী ধাপে গিয়েছি। অনুসন্ধান চলমান আছে। তদন্তে যেটা আসে, তা অনুযায়ী আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করব। এখানে মনমতো কাজ করার কোনো অবকাশ নেই।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক কথাই বলা হচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য রাখেন, দেখেন আমরা কী করছি। নিজেরাই বুঝতে পারবেন এটা মনগড়া কি না, বা আমরা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছি কি না। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এখন অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয় থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, আইনের আওতায় বিদেশে এমএলআর (Mutual Legal Assistance Request) পাঠানোর প্রয়োজন হলে আমরা তা অবশ্যই করব।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। সত্যতা যাচাই করে অভিযোগের সারবত্তা পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে দুদক। আমরা সত্যতা যাচাই করে যদি সেখানে সারবত্তা থাকে, তবে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হব।

দুদ সচবি সাইদুর রহমান খান জানান, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবে।

এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর নথিপত্র তলব করে চিঠির পর মন্ত্রণালয় থেকে এসব কাগজপত্র দুদকে পাঠানো হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করে। অভিযোগ অনুসন্ধানে পরের দিন চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক।

গত রোববার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুস, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়েও কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। যেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগনিকে মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে ৪,৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রিন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে। আর সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয় করার বিষয়টি উঠে এসেছে অভিযোগে।

দুদক জানায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুস গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করার অভিযোগ।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও, তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুস লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করছেন।

দুদকের এই অনুসন্ধান প্রসঙ্গে রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ১১ হাজার কোটি টাকার এই সংখ্যাটি একটু আগে ঠিকমতো উনারা নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। একবার শুনি, ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, যেটা আমার দুই মন্ত্রণালয়ের বাজেটও ছিল না। এরপর একবার শুনি ১১ হাজার কোটি টাকা। কয়েকদিন আগে শুনলাম ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২ কোটি ৭৬ লাখ থেকে ১১ হাজার কোটিতে উঠে যায়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কাউকে তারা পাকড়াও করবে, তাহলে এর অনেক পদ্ধতি আছে। আমরা দেখছি আগে দুদক কী কী করছে। বিএনপির ওপরেই করেছে। আওয়ামী লীগের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আওয়ামী লীগের কয়জন লোকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে? পূর্বে যে কারণে দুদক ব্যবহৃত হয়েছিল, ভবিষ্যতে সে কারণেই ব্যবহৃত হবে।

দুদকের অনুসন্ধান জালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদসহ ডজনখানেক কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তার মানহানি করা হয়েছে বলে দাবিও করেছিলে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুধু তাই নয় গত ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়। যদিও ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান তার বিরুদ্ধে আইন-বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরুর কথা জানিয়েছেন।

টিআইএস

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement