চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে দেশের প্রথম বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের (এফডিআই) কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে এই অবকাঠামোগত প্রকল্পের সূচনা করেন। ডেনমার্কের মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'এপিএম টার্মিনালস' সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় ৭৬ কোটি ডলার (প্রায় ৯ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা) বিনিয়োগে টার্মিনালটি নির্মাণ করছে। এতে তাদের দেশীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড।
কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে পতেঙ্গার গুপ্তা বাঁকের আগে এবং সাগর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে ৪৯.১৫ একর জায়গায় প্রকল্পটির মূল অবকাঠামো গড়ে উঠছে। প্রকল্পটির কাজ ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০৩০ সালে এটি পুরোপুরি চালু হবে। চালুর পর টানা ৩০ বছর এটি পরিচালনা করবে এপিএম টার্মিনালস। পরবর্তীতে শর্তপূরণ সাপেক্ষে মেয়ার আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।
নতুন এই টার্মিনালে থাকছে ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটি এবং বিদ্যুৎচালিত ৭টি আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ প্রায় ৮০ ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা। সাগর থেকে বন্দরের মূল টার্মিনালে প্রবেশের ঝুঁকিপূর্ণ গুপ্তা বাঁকের আগেই এর অবস্থান হওয়ায় নৌপথের দিক থেকে টার্মিনালটি বড় ধরনের ভৌগোলিক সুবিধা পাবে। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান টার্মিনালগুলোতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ২,৮০০ একক কনটেইনারের (TEUs) জাহাজ ভিড়তে পারে, সেখানে লালদিয়া টার্মিনালে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের প্রায় ৬,০০০ একক কনটেইনার বহনকারী বৃহৎ জাহাজ সহজে ভিড়তে পারবে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি টার্মিনালের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো সম্ভব হয়। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে নতুন করে আরও আট থেকে নয় লাখ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যুক্ত হবে, যা বন্দরের মোট বার্ষিক সক্ষমতা ৪৪ লাখ এককে উন্নীত করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এই টার্মিনাল নির্মাণে সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। উল্টো এটি থেকে এককালীন ২৫০ কোটি টাকা ফি পাওয়ার পাশাপাশি পরিচালিত প্রথম ৮ লাখ কনটেইনারের প্রতিটির জন্য ২১ ডলার এবং পরবর্তী ১ লাখের জন্য প্রতিটিতে ২৩ ডলার হারে আয় করবে বন্দর।
ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ একটি বড় মাইলফলক। এর ফলে চট্টগ্রাম শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের অন্যতম লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে।’ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের এই গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এসএ