সারাদেশে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ২৪৭ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। চলতি মৌসুমে একটানা এত বেশি লোডশেডিংয়ের ঘটনা পূর্বে হয়নি।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বিশেষ করে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বেশিরভাগ সময় ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে থাকছে। পাশাপাশি কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে।
এর মধ্যে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমেছে। গতকাল যেখানে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল, রোববার মধ্যরাতের পর তা কমে ৯০০ মেগাওয়াটের ঘরে নেমে আসে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি আরও বেড়েছে।
দেশীয় উৎপাদনেও বড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দিনের কিছু সময়ে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব উৎস থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ জাতীয় চাহিদার তুলনায় খুবই কম। দিনের বেশিরভাগ সময় দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে থাকছে।
অন্যদিকে গরমের কারণে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। ফলে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে চাহিদা বাড়ছে। এতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে এবং ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি কম উৎপাদনে থাকা ও বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিল্পকারখানার মালিক ও শ্রমিকেরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানার কাজের সময়সূচি বিঘ্নিত হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন খরচ। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এফএস