২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের দুই দশক আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালতের এক বিচারক। এফবিআই এজেন্টদের কাছে দেওয়া ওই জবানবন্দি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি- এমন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
কিউবার গুয়ান্তানামো বে কারাগারে খালিদ ও তার সহযোগীদের বিচার শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ প্রচেষ্টার মধ্যে আদালতের এ সিদ্ধান্তকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত শুক্রবার বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে এফবিআইয়ের চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে খালিদের দেওয়া জবানবন্দি বাতিল করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, এর আগে সিআইএর হেফাজতে খালিদের ওপর চালানো নির্যাতনের প্রভাব তার পরবর্তী স্বীকারোক্তি কতটা স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
বিচারক শ্রামার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সিআইএর হেফাজতে ওয়াটারবোর্ডিংসহ বিভিন্ন নির্যাতনমূলক জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হওয়ার কারণে খালিদের মধ্যে এমন ভয় তৈরি হয়েছিল যে, জিজ্ঞাসাবাদকারীদের সহযোগিতা না করলে তাকে আবারও কঠোর নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে।
২০০৩ সালে গ্রেপ্তারের পর খালিদকে সিআইএর একটি গোপন বন্দিশিবিরে রাখা হয়। সেখানে তার ওপর বিভিন্ন নির্যাতনমূলক জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল।
বিচারক আরও বলেন, এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের সময় খালিদকে নীরব থাকার অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়নি। একই সঙ্গে তাকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ফলে ওই জবানবন্দিকে স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বীকারোক্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলে আদালত মনে করেছে।
খালিদের এই স্বীকারোক্তি প্রসিকিউশন পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। ফলে তা বাতিল হওয়ায় মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মামলার প্রধান প্রসিকিউটর রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যারন সি. রুগ জানিয়েছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, তা সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে খালিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এফবিআইয়ের সাবেক এজেন্ট ফ্রাঙ্ক পেলেগ্রিনো আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, খালিদ স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছিলেন।
২০০১ সালের ৯/১১ হামলায় বিমান ছিনতাই করে পেন্টাগন ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পরিকল্পনার মূলহোতা হিসেবে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি এবং সামরিক কমিশন ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জটিলতায় মামলাটি আটকে আছে।
চলতি সপ্তাহে বিচারক শ্রামা আগামী ৫ জুন ২০২৮ সালে বিচার শুরুর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। তবে সর্বশেষ রায়ের ফলে বিচার শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নিয়ে আরও আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে পারে মামলাটি।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালিদ শেখ মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। ২০২৪ সালে খালিদসহ তিন আসামি এমন একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছিলেন, যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর সুযোগ ছিল। তবে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ওই চুক্তি বাতিল করেন। পরে একটি আপিল আদালতও চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
-টিএস