চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি কমাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ‘হিট স্ট্রেস’ বা তাপজনিত চাপকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর ও জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ সেন্টারের (জেটিবিসি) যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ সভায় এ দাবি তোলা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞিপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চরম তাপের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে জেটিবিসির ট্রাস্টি এস এম মোর্শেদ বলেন, তাপজনিত কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাসের ফলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১ দশমিক ৮ থেকে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪ শতাংশ।
এ ক্ষতির প্রভাব ঢাকায় সবচেয়ে বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, চরম তাপের কারণে ঢাকায় বছরে প্রায় ৩ শতাংশ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যা ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির উৎপাদনশীলতা ক্ষতির সমান।
এ চাপ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় হারাতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এস এম মোর্শেদ।
সভায় মূল প্রবন্ধে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ৩৫ দিন দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। দ্রুত নগরায়ন, খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমিক এবং শীতল পরিবেশে প্রবেশের সীমিত সুযোগ থাকায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, কৃষিশ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক ও হকাররা।
অতিরিক্ত তাপের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পেশাগত রোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কবার্তা, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা, কুলিং সেন্টার স্থাপন, নগর সবুজায়ন এবং ‘কুল রুফ’ বা ছাদ শীতলকরণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোমিনুল ইসলাম বলেন, চরম তাপের প্রভাব মোকাবিলায় খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা জরুরি। কৃষি, পরিবহন, নির্মাণ ও পোশাক খাতে তাপজনিত ঝুঁকি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।সভায় ঝুঁকি মানচিত্র প্রণয়ন, আবাসিক ভবনে তাপ কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্যোগের স্থায়ী আদেশাবলিতে ‘হিট স্ট্রেস’ অন্তর্ভুক্ত করা, তাপজনিত অসুস্থতাকে পেশাগত রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কর্মস্থলে পর্যাপ্ত খাওয়ার পানির পয়েন্ট স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
টিআইএস