পটুয়াখালীর বাউফলে খাবারে বিষক্রিয়ায় ২৫টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।
মহিষের রাখাল ও পশু চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষগুলো বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনটি মারা গেছে। বেশ কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মহিষের মালিক, রাখাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে মহিষগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও ঘাস খাওয়ানোর জন্য রাখালেরা শতাধিক মহিষ লাল চরে নিয়ে যান। চরের ঘাসে আগে থেকেই দুর্বৃত্তরা বিষপ্রয়োগ করে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘাস খেয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধার একটি, সুমন মাঝির একটি ও রুহুল আমিনের একটি মহিষ মারা গেছে। এখনো বেশ কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষের মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে লাল চরে মহিষ পালন করি। শত শত মহিষ লাল চরের ঘাস খায়। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এ বছর শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করে রেখেছে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
আরেক মহিষের মালিক রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে একটি মহিষ মারা গেছে। বাকিগুলো অসুস্থ। চিকিৎসা চলছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা গেছে। বাকি মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস/আরএন