টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টির ফলে উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পানির স্রোতে মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ ও সংলগ্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা–লংগদু সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
তবে কবাখালী ইউনিয়নের মাইনী ব্রিজসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় সড়কে পানির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় দীঘিনালা–সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, “উজানে বৃষ্টি হলেই মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আমাদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হয়। অনেক সময় নৌকা নিয়ে চলাচল করতে হয়।”
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জ্ঞান জানান, শুক্রবার রাতে টানা ভারী বৃষ্টিতে ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পাবলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭টি পরিবারের ২০ জন সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের প্রাথমিকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, “শুক্রবার রাতে মুষলধারে অবিরাম বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার কবাখালী, বোয়ালখালী ও মেরুং ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কবাখালী ইউনিয়নের সাতটি পরিবারের ২০ জন সদস্য আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাসের মধ্যে দীঘিনালা উপজেলায় এ নিয়ে তিনবার বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটছে।
এসআর