ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। একই সাথে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক নেমে এসেছে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। রয়টার্স/ইপসোস (Reuters/Ipsos)-এর সাম্প্রতিক এক মতামত জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সমর্থন করছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই সমর্থনের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
যুদ্ধের ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এদিকে, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চরম ধস নেমেছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো রয়টার্স/ইপসোস জরিপে তার কার্যক্ষমতার প্রতি মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা তার প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও ইরানের তেলের ওপর অঘোষিত অবরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালনে ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমানো ও সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের জন্য আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) এই অর্থনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াতে "অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট" নামের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল ঘোষণা করেছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডেমোক্র্যাটদের বিপরীতে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসএ