ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
হঠাৎ কেন যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান?
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ছয় বছর আগে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। এরপর রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ এবং একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে আলোচনায় ছিলেন তাঁরা। অথচ এবার দুই সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে বসবাসের পরিকল্পনা করেছেন এই দম্পতি। চলতি আগস্টেই তাঁদের যুক্তরাজ্যে ফেরার কথা রয়েছে।

তাঁদের সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। পরিবারটি রাজপরিবারের কোনো বাসভবনে নয়, লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁদের বাড়ি এবং পর্তুগালের সম্পত্তিও রাখবেন তাঁরা।

সন্তানদের ভবিষ্যৎই কি মূল কারণ?


হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে সন্তানদের শিক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে। সন্তানদের ব্রিটিশ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে চান হ্যারি- এমন ইঙ্গিত আগেও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া গেছে।

এবার সন্তানদের যুক্তরাজ্যের স্কুলে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজপরিবারের পর্যবেক্ষকেরা।

চার্লসের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ


হ্যারির বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সম্পর্কও এই প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। গত মাসে হ্যারি-মেগান তাঁদের সন্তানদের নিয়ে হাইগ্রোভে চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন। ওই সাক্ষাৎ ছিল চার্লসের সঙ্গে নাতি-নাতনিদের দীর্ঘ বিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ পুনর্মিলন।

হ্যারি এবার যুক্তরাজ্যে থাকলে বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বাবা-ছেলের সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে এই প্রত্যাবর্তনকে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফেরার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। হ্যারি-মেগান ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবেই থাকবেন এবং ‘ওয়ার্কিং রয়্যাল’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা নেই।

উইলিয়ামের সঙ্গে দূরত্ব কি কাটবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে হ্যারির ভাই প্রিন্স উইলিয়ামকে ঘিরে। রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক।

হ্যারির স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার ও বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্রে রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ্যে আসায় দুই ভাইয়ের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব পুরোপুরি কাটেনি।

তবে একই দেশে বসবাস করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে ভবিষ্যতে সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, এই প্রত্যাবর্তন রাজপরিবারের ভেতরে নতুন উত্তেজনাও তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে কী হবে?

যুক্তরাজ্যে ফেরার ক্ষেত্রে হ্যারির অন্যতম বড় উদ্বেগ নিরাপত্তা। রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর সরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। হ্যারি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, পরিবারকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁদের নতুন বাসস্থানের নিরাপত্তাব্যবস্থা কী হবে, তা এখনো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ব্রিটিশ সরকারও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি নয়।

যুক্তরাষ্ট্র কি পুরোপুরি ছাড়ছেন?

এ মুহূর্তে তেমনটা মনে হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যে ফেরার পরও হ্যারি-মেগান ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়ি রেখে দেবেন। তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা ও অন্যান্য কার্যক্রমও চালু থাকবে। মেগানের ব্যবসা এবং হ্যারির দাতব্য কর্মকাণ্ডও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যে ফেরাটা শুধু রাজপরিবারে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নয়; বরং সন্তানদের শিক্ষা, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ পুনর্গঠনের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে ছয় বছর পর দেশে ফিরে হ্যারি-মেগান রাজপরিবার ও ব্রিটিশ জনমতের সঙ্গে নতুন করে কীভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝