কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে ছয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানোর কথা জানিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
শুক্রবার কলকাতার বাংলাদেশ মিশনে সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে। তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবু।
তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে শুক্রবারই মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগলে শনিবার মরদেহ পাঠানো হতে পারে।
সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও জানানো হবে।
গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন শিশু ও দুইজন নারী রয়েছেন।
নিহত দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়াল। বৃহস্পতিবার তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও শুরু হয়েছে তৎপরতা। ব্যবসার প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ।
এর আগে নয়টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁকে শোকজ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
-টিএস