প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন চারজন সদস্য শপথ নিতে যাচ্ছেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। একইসঙ্গে সরকারের কাজের গতি বাড়াতে অন্তত পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে রদবদলের জোর গুঞ্জন রয়েছে।
সরকার, বিএনপি ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যোগাযোগ করে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নতুন মন্ত্রী হিসেবে ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বঙ্গভবনে থাকার জন্য তাকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি হিসেবে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর থেকে ছয়টি নতুন গাড়িও পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।
সম্ভাব্য দপ্তর ও রদবদল
সূত্রমতে, নতুন যুক্ত হতে যাওয়া সদস্যদের সম্ভাব্য দপ্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ড. আবদুল মঈন খানকে দেওয়া হতে পারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে আন্দালিব রহমান পার্থকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তা এখনো চূড়ান্ত জানা যায়নি।
এর বাইরে প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা রদবদলের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আজ নতুন চারজন যুক্ত হলে প্রধানমন্ত্রীসহ মোট মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪ জনে (২৮ জন মন্ত্রী ও ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী)।