দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদে দ্বিতীয়বারের মতো ভোটাভুটি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
বর্তমানে জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় মোট ভোটার ৩৪৯ জন। তবে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করায় ভোট দিচ্ছেন না। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
সংসদ সদস্য হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী পদ থেকেও তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য না হওয়ায় ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ ভোট দিতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ কক্ষে চারটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেবেন। ব্যালটে ভোটারের নাম এবং তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা উল্লেখ থাকবে।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনের সামনে নির্ধারিত স্থানে বসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনাররা, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকাও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটি হচ্ছে। এর আগে প্রায় সব নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে ভোটের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
টিএস