ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের দায় উৎপাদনকারীর: নির্দেশিকা জারি
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে এখন নিজেদের পণ্যের বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের দায়িত্ব নিতে হবে। প্রথম দুই বছরে উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের অন্তত ১৫ শতাংশ সংগ্রহ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরে এ লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে সংগ্রহ ৩০ শতাংশ এবং পুনঃচক্রায়ন ১৫ শতাংশ হবে।

‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব বিষয়ক নির্দেশিকা, ২০২৬’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশিকার প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, ব্র্যান্ড মালিক ও খুচরা বিক্রেতাদের ‘অবলাইজড এনটিটি’ বা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের পণ্য ব্যবহারের পর তৈরি হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করবে। নির্দেশিকা জারির পর প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তৃতীয় বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে। তালিকাভুক্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অবলাইজড এনটিটিকে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধন করতে হবে। নতুন বা তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানকেও তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে নিবন্ধিত হতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে এবং এর সঙ্গে কর্মপরিকল্পনাও জমা দিতে হবে। আবেদন যথাযথ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর। অবলাইজড এনটিটিগুলো নিজেদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজেরা নিতে পারবে অথবা ‘প্রোডিউসার রেসপনসিবিলিটি অর্গানাইজেশন’ বা পিআরওর মাধ্যমে তা করতে পারবে।

পিআরওকে পরিবেশ অধিদপ্তরে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর। বর্জ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বাছাই, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের সক্ষমতা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চ্যানেল, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং স্বচ্ছ ডাটাবেজ পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে পিআরওর।

নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার প্রথম দুই বছরে তালিকাভুক্ত প্লাস্টিক পণ্যের বর্জ্যের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ সংগ্রহ করতে হবে। এর মধ্যে অন্তত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম বছরে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে ৩০ শতাংশ এবং পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ হবে।

তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হিসাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংগৃহীত বর্জ্য ধরা যাবে না। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্যের নির্ধারিত প্রতিটি শ্রেণি থেকে সমহারে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন করতে হবে।

নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম ও এক্সপান্ডেড পলিস্টেরিন বা ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য প্লাস্টিক।

কঠিন প্লাস্টিকের মধ্যে রয়েছে পানির ও কোমলপানীয়ের বোতল, প্লাস্টিকের কৌটা, খাদ্য সংরক্ষণের কৌটা, ডিমের ট্রে, একবার ব্যবহারযোগ্য কাটলারি, পিভিসি পাইপ, ক্যাপ ও ঢাকনা। নমনীয় প্লাস্টিকের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক ফিল্ম, মোড়ক, মিনিপ্যাক, ল্যামিনেটস ও বহুস্তরীয় প্লাস্টিক।

এছাড়া স্টাইরোফোম ও ইপিএসের কাপ, কনটেইনার, ডিমের কার্টন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য কাটলারি; সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার, সিগারেট ফিল্টার, ফোম, মাছ ধরার জাল ও অক্সো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকও তালিকার আওতায় রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করলে তা ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে পরবর্তী দুই অর্থবছরের মধ্যে অন্য অবলাইজড এনটিটি বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে পারবে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্জন করলে ঘাটতি পূরণে একই শ্রেণির বর্জ্যের প্রকৃত প্লাস্টিক ক্রেডিট অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিতে পারবে।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবলাইজড এনটিটিগুলো ডিপোজিট রিফান্ড, বাইব্যাক ও টেকব্যাক স্কিমসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে পারবে। ডিপোজিট রিফান্ড স্কিমে নির্ধারিত সংগ্রহ কেন্দ্রে প্লাস্টিক পণ্য ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ভোক্তা বা বর্জ্য ফেরতদাতাকে নির্দিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

পিআরওগুলো অবলাইজড এনটিটির অর্থে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে উপকূলীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য পুনঃক্রয়, সংগৃহীত বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন কেন্দ্রে পরিবহন এবং বড় পুনঃচক্রায়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মতো কার্যক্রম থাকবে।

এছাড়া থারমাল ট্রিটমেন্ট সাইট স্থাপন এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহকদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে পিআরও।

ইপিআর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অবলাইজড এনটিটিকে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে পাঁচ বছরের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পিআরওর সঙ্গে ইপিআর সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন নিবন্ধিত ও অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে হবে এবং লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতি অর্থবছরের জুলাইয়ের মধ্যে পিআরওকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজন সংক্রান্ত প্রতিবেদন অবলাইজড এনটিটির কাছে জমা দিতে হবে। অবলাইজড এনটিটিকে প্রতি অর্থবছরের আগস্টের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে স্থানীয় বাজারে বিতরণ করা পণ্য ও প্যাকেজিংয়ের পরিমাণ এবং সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতির প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রতিবেদন দাখিল না করলে নিবন্ধন নবায়ন করা হবে না।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে ব্যর্থতার কারণ এবং ভবিষ্যতে লক্ষ্য পূরণের কর্মপরিকল্পনাও পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। অবলাইজড এনটিটি ও পিআরওর তালিকাভুক্তি, নিবন্ধন এবং প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে অনলাইন ডিজিটাল পোর্টাল চালু করতে পারবে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য, বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা, পুনরুদ্ধার ক্ষমতা, পুনরুদ্ধারের পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণে অনলাইন তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে।

নির্দেশিকাটি বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সব প্লাস্টিক পণ্য এবং সেগুলো ব্যবহারের পর সৃষ্ট বর্জ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশিকার আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার প্রথম তিন বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে সরকার। এসব লক্ষ্যমাত্রা সব অবলাইজড এনটিটির জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

টিআইএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝