সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। কেন জয়-পরাজয়ের হিসাব জানা সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অলি আহমদ।
সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন এলডিপি চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়।
টকশোতে অলি আহমদকে প্রশ্ন করা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন রয়েছে। ফলে দলটির প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় অনেকটাই নিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কেন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন?
জবাবে অলি আহমদ প্রার্থী হওয়ার কারণ তুলে ধরেন।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান
অলি আহমদ বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তাঁর মতে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ফলাফল মেনে নেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চারই অংশ।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জয় বা পরাজয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিটাকে সম্মান করতে হবে।’
১১-দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরা
অলি আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ১১-দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরা।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনসমর্থন ও দলীয় শক্তির বিচারে ১১-দলীয় জোট একটি বড় জোট।
অলি আহমদ বলেন, ‘আজকে আমরা যদি প্রার্থী না দিতাম, তখন আপনারা সবাই বলতেন যে ১১-দলীয় জোট কেন প্রার্থী দিল না। ১১ দলের কোনো প্রার্থী নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণকে বলতে চাই যে ১১ দলের প্রার্থী আছে এবং আমরা চাই ১১ দলের চেয়ে বিএনপি যেন একটা ভালো প্রার্থী দেয় এবং সেটা ভালো হবে।’
অর্থাৎ, জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা এবং ১১-দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন অলি আহমদ।
আরএন