ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
নাট্যকর্মী, শিক্ষক, রাজনীতিক- বঙ্গভবনের পথে ফখরুল
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ৫:৩৯ পিএম
X

একসময় নাট্যমঞ্চে অভিনয় করতেন তিনি। ছিলেন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবনে সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতে। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি দায়িত্ব, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মুখপাত্র এবং দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব- জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন দাঁড়িয়ে আছেন আরও বড় এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সামনে।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল। আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত নয়। তবে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই বঙ্গভবনের সম্ভাব্য বাসিন্দা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলোর একটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নাট্যমঞ্চ থেকেই শুরু

মির্জা ফখরুলের পরিচয় কেবল রাজনীতিক হিসেবে নয়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রাচীন নাট্যচর্চার সঙ্গে তাঁর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনাও করেছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রচারিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে নিজের সাংস্কৃতিক জীবনের নানা অজানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। ছাত্রজীবন থেকেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। নাট্যজন ফণী ভূষণ পালিতের হাতেই তাঁর নাট্যচর্চার হাতেখড়ি।

খ্যাতিমান চিত্রনায়ক রহমান ছিলেন মির্জা ফখরুলের মামাতো ভাই। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘নবাব’খ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গেও মঞ্চে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে অভিনয় এবং নাটক পরিচালনার সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফখরুল।

শুধু নাটক নয়, ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্রিকেট খেলেছেন এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছেন।

নাট্যজন, শিক্ষক ও রাজনীতিক- এই তিন পরিচয়ের মধ্যে কোনটি তাঁর কাছে বেশি উপভোগ্য, এমন প্রশ্নের জবাবে সাংস্কৃতিক জগতকেই এগিয়ে রাখেন মির্জা ফখরুল।

তাঁর ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক জগৎটাই বেশি উপভোগ্যের বিষয়।’

‘ইত্যাদি’র সেই আয়োজনে তাঁর আরেকটি প্রতিভারও পরিচয় মেলে। মির্জা ফখরুল একজন বাচিকশিল্পীও। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার কয়েকটি লাইন আবৃত্তি করে শোনান তিনি।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী এবং স্বাধীনতার আগে ও পরে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন মির্জা ফখরুল। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

একদিকে নাট্যমঞ্চ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে উত্তাল ছাত্ররাজনীতি- দুটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে তরুণ মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।

শিক্ষকতা ও সরকারি দায়িত্ব

১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর পেশাজীবন শুরু হয়। পরে আরও কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।

সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর এস এ বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন ফখরুল।

পরে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন তিনি।

পৌর রাজনীতি থেকে বিএনপিতে

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। 

১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

তবে নির্বাচনী পরাজয় তাঁকে থামাতে পারেনি। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উঠে আসেন তিনি।

সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।

ওই বছরের নভেম্বরে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

সরকারে থাকার সময় নীতি নির্ধারণে মনোযোগী একজন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হন।

ওয়ান-ইলেভেনের পর কঠিন অধ্যায়

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হয়ে ওঠে। তবে ২০০৯ সালের পর তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে এই পদে ছিলেন তারেক রহমান। একই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করায় বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান মির্জা ফখরুল।

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন।

টানা প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ে দলকে সংগঠিত রাখা এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ।

পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এরপর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হলেও বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং পরে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলন, মামলা ও কারাবাস

২০১৮ সালের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকায় দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মির্জা ফখরুলের ওপর আরও বড় দায়িত্ব এসে পড়ে।

নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, রাজপথের আন্দোলন কিংবা আদালতের বারান্দা- বিভিন্ন সময়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মামলা ও গ্রেপ্তারও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘাতের পরদিন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান।

দীর্ঘ এই সময়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে কেউ কেউ তাঁকে রাজপথের চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে বেশি স্বচ্ছন্দ একজন নেতা হিসেবে দেখেছেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর সংযত রাজনৈতিক ভাষা, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্বে থাকার বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আবার সংসদে, এবার মন্ত্রিসভায়

এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর আবারও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফেরেন তিনি।

তবে কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আসে আরও বড় মোড়।

এবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করে দল। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর প্রার্থিতা অনুমোদন করা হয়।

প্রার্থী হওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের মহাসচিবের দায়িত্বেরও অবসান ঘটে তাঁর।

পরিবার ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য

ব্যক্তিজীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ মির্জা ফখরুলের দুই মেয়ে-মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যও দীর্ঘ। বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের চতুর্থ স্পিকার। ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের সরকারে ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

বঙ্গভবনের পথে নতুন অধ্যায়

১৯৬৯ সালের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌর রাজনীতি, বিএনপিতে যোগদান, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব- দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক যাত্রায় বহু বাঁক পেরিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এই দীর্ঘ পথচলায় এসেছে নির্বাচনী জয়-পরাজয়, সরকারে থাকা, বিরোধী দলের রাজনীতি, আন্দোলন, মামলা ও কারাবাস। আবার এর বাইরেও তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাট্যচর্চা, সাহিত্য ও অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা।

একসময় ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যমঞ্চে অভিনয় করা মানুষটি পরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের সারিতে। শিক্ষকতার শ্রেণিকক্ষ থেকে সংসদ, মন্ত্রিসভা থেকে বিএনপির মহাসচিবের কার্যালয়- প্রতিটি অধ্যায় পেরিয়ে এখন তাঁর সামনে রাষ্ট্রপতি ভবনের দরজা।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল চূড়ান্ত নয়। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই স্পষ্ট হবে- নাট্যকর্মী, শিক্ষক ও রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার পরবর্তী গন্তব্য সত্যিই বঙ্গভবন কি না।


-টিএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝