ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
গ্যাস সংকটে ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের ‘মোরাল সাপোর্ট’ চাইলেন জ্বালানিমন্ত্রী
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও ত্রুটির পর গ্যাস সংকটের জন্য ক্ষমা চেয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ‘মোরাল সাপোর্ট’  চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে-এ বাস্তবতা তিনি বোঝেন। কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্যাংক ঋণের সুদ ও শ্রমিকের বেতন চালিয়ে যাওয়ার চাপের বিষয়টিও তিনি জানেন।

তিনি বলেন, “মিটিংয়ের শুরুতেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে আজকের যে সমস্যাটা, সে সমস্যাটার জন্য আমিসহ সবাই ভোগান্তির মধ্যে আছি।”

গভীর সমুদ্রে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তার ভাষ্য, এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা সরকার “কল্পনাও” করেনি। টার্মিনালের পাশে থাকা আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশে থাকা দুটি এফএসআরইউর একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কমার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন শুধু আমার দিন গোনা ছাড়া আর কিছু করার নাই। আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই।”

সংকট সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “এ সরকার জনগণের সরকার। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে বলে আমরা এখানে এসে সরকার গঠন করতে পেরেছি।”

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার ‘দিনরাত’ কাজ করছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “উই অল আর ভেরি সিরিয়াস।”

তবে এফএসআরইউ মেরামতের সময়সহ কিছু বিষয় ‘সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে তার ভাষ্য।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এখন এফএসআরইউ খারাপ হয়ে গেছে। এখানে তো আমি জোরজবরদস্তি করে বলতে পারব না। ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে আমাদেরকে বলবে, সেভাবেই হবে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট মেরামতের পর দুটি বয়লার সমন্বয় করতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে বলে প্রকৌশলীরা সরকারকে জানিয়েছেন। ওই সময়ে গ্যাস সংকট আরও বাড়তে পারে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।

গ্যাসের ঘাটতি সামলাতে সরকার চার কার্গো এলএনজি কিনেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউ সচল হলে সেগুলো খালাস করে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।

টার্মিনালের পুড়ে যাওয়া তার বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কাস্টমসে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলোচনায় শিল্পোদ্যোক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং ব্যাংকঋণের সুদের চাপের কথা তুলে ধরেন।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারীকরণ ও শিল্পায়নের শুরুর সময় তিনিও একজন শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তাই শিল্পের চাপ তার জানা আছে।

“আমি তো আপনাদেরই একজন। আপনাদের কষ্টটা আমার চেয়ে বেশি আর কে বোঝে? কারণ আমি জানি, আমরা যখন ইন্ডাস্ট্রি করছি, আমাদের এই ইন্টারেস্টের চাকা কীভাবে ঘুরছে।”

কারখানা বন্ধ থাকলেও যে সুদের হিসাব বন্ধ হয় না, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সবার ছুটি আছে, কিন্তু ইন্টারেস্টের ছুটি নাই। ছুটির দিনেও ইন্টারেস্ট বাড়তে থাকে।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তিনবার শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকার শিল্পের সংকট কাটাতে পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।

“ইন্ডাস্ট্রি না চললে আমার ইকোনমিক গ্রোথ হবে কই থেকে? সুতরাং আমাদের জন্য শিল্পকে চালায়ে রাখা শিরোধার্য।”

শিল্প সচল রাখতে যা যা করা দরকার, সরকার তা করবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বর্তমান সরকার যে পাঁচ বছরের জন্য এসেছে, সে কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ইলেকশনে যদি জনগণ না নেয়, আমরা চলে যাব। এটা আমাদের অতীতে রেকর্ডও আছে।”

সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর বড় দুর্বলতাগুলো কমিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে বলে তিনি জানান।

বক্তব্যের শেষ দিকে আবারও ক্ষমা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, “এটা আমাদের ক্রিয়েট করার সমস্যা না। কিন্তু সরকার যখন দায়িত্ব নিয়েছি, দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের। সে দায়িত্ব অবহেলা করছি না। আমরা সবাই চেষ্টা করছি অতি দ্রুত যেন আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে পারি।”

টিআইএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝