ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
কপাল পুড়লো ইউটিউবারদের, টাকা আয় আরও কঠিন হচ্ছে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ঘরে বসে ইউটিউব থেকে লাখ লাখ মানুষ হাজার হাজার ডলার আয় করছেন। শুধু দরকার একটি চ্যানেল এবং নিজস্ব কনটেন্ট। তাতেই মাসে আয় করা যায় লাখ লাখ টাকা। তবে এবার ইউটিউবারদের জন্য দুঃসংবাদ দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। দিন দিন কঠিন হচ্ছে ইউটিউব থেকে আয় করা।

শখের বশে ভিডিও বানানো থেকে শুরু করে পেশা হিসেবে কনটেন্ট তৈরি সব ক্ষেত্রেই ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে অনেকে ভালো আয় করার পাশাপাশি পরিচিতিও পেয়েছেন। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যানেল তৈরি হচ্ছে।

তবে নতুন নির্মাতাদের জন্য ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন আয়ের পথ আগের মতো সহজ হবে না। আগের তুলনায় কঠিন হতে যাচ্ছে এই পথ। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াচটাইম ও শর্টস ভিউয়ের যে সীমা রয়েছে, সেটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ইউটিউব। ফলে নতুন চ্যানেলকে মনিটাইজেশনের যোগ্য হতে আগের চেয়ে বেশি দর্শক তৈরি করতে হবে।

আরও নতুন যেসব নিয়মে পরিবর্তন আসছে
এখন ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন আয় শুরু করতে সাধারণভাবে একটি চ্যানেলে কমপক্ষে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ ভিডিওর ক্ষেত্রে গত ১২ মাসে অন্তত ৪ হাজার ঘণ্টা বৈধ পাবলিক ওয়াচটাইম অথবা শর্টসের ক্ষেত্রে গত ৯০ দিনে ১ কোটি বৈধ ভিউ অর্জন করতে হয়।

নতুন ব্যবস্থায় সাবস্ক্রাইবারের প্রয়োজনীয় সংখ্যা একই থাকলেও ওয়াচটাইম ও শর্টস ভিউয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন চ্যানেলের জন্য প্রস্তাবিত শর্ত হলো- অন্তত ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার, গত ১২ মাসে ৮ হাজার ঘণ্টা যোগ্য ওয়াচটাইম, অথবা গত ৯০ দিনে ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিউ।

অর্থাৎ, দীর্ঘ ভিডিও দিয়ে মনিটাইজেশনের যোগ্য হতে ওয়াচটাইমের লক্ষ্য দ্বিগুণ হচ্ছে। একইভাবে শর্টস নির্মাতাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ভিউয়ের সংখ্যা ১ কোটি থেকে বেড়ে ২ কোটি হচ্ছে।

শর্টস নির্মাতাদের জন্যও থাকছে নতুন হিসাব
শর্টস ভিডিওর মাধ্যমে আয় করতে চান এমন নির্মাতাদের জন্যও আলাদা নিয়ম থাকছে। নতুন চ্যানেল ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে-তে প্রবেশের সময় ৯০ দিনের মধ্যে ২ কোটি যোগ্য শর্টস ভিউয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

তবে একবার ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার পরও শর্টস থেকে আয় চালু রাখার ক্ষেত্রে ভিউয়ের একটি ন্যূনতম সীমা থাকবে। কোনো চ্যানেল টানা ৯০ দিনের হিসাবে প্রয়োজনীয় ভিউ না পেলে শর্টস থেকে আয়ের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই চ্যানেলের সব ধরনের আয় বন্ধ হয়ে যাবে। দীর্ঘ ভিডিও থেকে আয়ের যোগ্যতা থাকলে সেই ভিডিওগুলোর মাধ্যমে আয় চালু থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় শর্টস ভিউ অর্জন করতে পারলে আবার শর্টস থেকে আয়ের সুযোগ পাওয়া যাবে।

সব ধরনের ভিউ বা ওয়াচটাইম কি গণনা হবে?
ইউটিউবের মনিটাইজেশন ব্যবস্থায় শুধু সংখ্যার পরিমাণ নয়, ভিউ ও ওয়াচটাইমের বৈধতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো ভিডিও কতবার দেখা হয়েছে বা কতক্ষণ চালানো হয়েছে, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়।

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পাবলিক ভিডিও থেকে পাওয়া বৈধ ওয়াচটাইম ও নির্দিষ্ট ধরনের যোগ্য শর্টস ভিউ হিসাব করা হয়। প্রাইভেট, আনলিস্টেড বা মুছে ফেলা ভিডিওসহ কিছু উৎসের ওয়াচটাইম এই লক্ষ্যমাত্রায় যুক্ত হয় না।

তাই কৃত্রিমভাবে ভিউ বা ওয়াচটাইম বাড়ানোর চেষ্টা করে নতুন নিয়মের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। চ্যানেলের স্বাভাবিক দর্শক ও প্রকৃত ভিডিও দেখার সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোনো ইউটিউবারদের ক্ষেত্রে কী হবে?
নতুন নিয়ম মূলত যারা ভবিষ্যতে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে-তে যোগ দিতে চান, তাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে পার্টনার প্রোগ্রামে থাকা নির্মাতাদের ক্ষেত্রে নতুন করে ৮ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম বা ২ কোটি শর্টস ভিউয়ের প্রবেশ-শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

তবে ইউটিউব চ্যানেলের সক্রিয়তা নিয়েও নজর রাখবে। দীর্ঘদিন কোনো ধরনের কার্যক্রম না থাকলে পার্টনার প্রোগ্রামে থাকা চ্যানেলের ওপরও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ শুধু একবার মনিটাইজেশন পাওয়াই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ এবং দর্শকদের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কেন এমন পরিবর্তন আনছে ইউটিউব?
ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভিডিও ও শর্টস প্রকাশিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দর্শকদের ভিডিও দেখার সময়ও ক্রমাগত বাড়ছে। এই বিশাল কনটেন্টের ভিড়ে কারা নিয়মিত দর্শক তৈরি করতে পারছেন এবং কার কনটেন্টে সত্যিকারের আগ্রহ রয়েছে, সেটি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে চাইছে প্ল্যাটফর্মটি।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে খুব অল্প সময়ে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে মনিটাইজেশনের যোগ্য হওয়া কঠিন হবে। নির্মাতাদের দীর্ঘ সময় ধরে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করতে হবে এবং দর্শকদের ধরে রাখার মতো ভিডিও বানাতে হবে।

নতুনদের কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার আগে শুধু সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর দিকে নজর দিলে হবে না। কোন ধরনের দর্শকের জন্য ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, তারা কতক্ষণ ভিডিও দেখছেন এবং কোন কনটেন্টে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এসব বিষয়ও বিশ্লেষণ করা জরুরি।

দীর্ঘ ভিডিও বানালে দর্শক ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আবার শর্টস নির্মাতাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত নতুন ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি এমন বিষয় বেছে নিতে হবে, যা সহজে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে।

টিআইএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝