আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার আপিল শুনানি তৃতীয় দিনের মতো চলছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।
মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারা যান।
নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০০৫ সালে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন- নূরুল ইসলাম সরকার, নূরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু গত ৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান। টিপু ও নূরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম এবং মশিউর রহমান ওরফে মনুর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর খালাস পান।
হাইকোর্টের রায়ের পর দণ্ডিত আসামিরা আপিল করেন। সেই আপিলের শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলছে।
-টিএস