ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যই বাইরের হুমকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ‘প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তি’ প্রমাণ করেছে।
আরাগচি বলেন, ‘মুসলিমরা যখন ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন আমরা ক্ষতিকর বহিরাগতদের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ সরাসরি মোকাবিলা করতে পারি। এখন সময় শুধু নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধকে ধারণ করার।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দেশটির কর্মকর্তারা বিদেশি শক্তির পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এ ছাড়া শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে শুক্রবার ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোও ক্রমেই উপলব্ধি করছে যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা নতুন করে আঞ্চলিক সংলাপ শুরুর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ইতিমধ্যে দেখিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ হয় এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে পরে সমুদ্র নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা থমকে যায়।
এসএ