দক্ষিণ সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক এক হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সৌদি, ইয়েমেনি, মিশরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রার দগ্ধ হওয়া এক চার বছরের শিশুও রয়েছে।
শুক্রবার ভোরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হুথিরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে। রিয়াদ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সতর্ক করে দিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের মাধ্যমে দেশটির ওপর বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোপন সূত্রে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা জানান, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের তত্ত্বাবধানে আঞ্চলিক তেল স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে এ ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। সৌদি আরবের লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি ব্যাহত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কূটনৈতিক অগ্রগতি নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই এই উসকানি দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় আঞ্চলিক সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে রিয়াদ। শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই অঞ্চলের নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি করবে। সৌদি কর্মকর্তা জানান, হামলার আশঙ্কা সত্ত্বেও রিয়াদ শান্তিমূলক কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাথে তাদের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা পূর্ণ মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সৌদি আরব সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও রিয়াদ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স