ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
উপকূলে ইলিশের ভরা মৌসুমেও জেলেদের হতাশা
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ পিএম
X

বরগুনার আমতলীসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশের প্রাচুর্যে মুখর থাকে এই জনপদ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সেই পরিচিত দৃশ্য যেন হারিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। গভীর সাগরে দিনের পর দিন অবস্থান করেও অধিকাংশ ট্রলার ফিরছে প্রায় খালি হাতে। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো জেলে পরিবার।

আমতলী, তালতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা ও বরগুনা সদর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মাছের সংকট, দফায় দফায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সমুদ্রদস্যুতার আতঙ্ক এবং ঋণের কিস্তির চাপ—সব মিলিয়ে এখন উপকূলজুড়ে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে ট্রলারের আকার ও সময়ভেদে জ্বালানি তেল, বরফ, খাদ্য, শ্রমিকের মজুরিসহ ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় সেই খরচও উঠে আসছে না। একের পর এক লোকসান গুনতে গিয়ে অনেক ট্রলার মালিক ও জেলে এখন ব্যাংক, এনজিও কিংবা স্থানীয় মহাজনের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ শোধ করছেন।

উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য জেলে পরিবারের চুলায় নিয়মিত আগুন জ্বলছে না। আয় না থাকায় অনেক পরিবার ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছে। কেউ গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বন্ধক রাখছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় মাছ ধরা বন্ধ হলেই তাদের জীবন-জীবিকা কার্যত থমকে যায়।

উপকূলের মৎস্য আড়তগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ অনেক কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত মাছ না আসায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। এতে জেলে, ব্যবসায়ী, আড়ত শ্রমিক, বরফকল, পরিবহন শ্রমিকসহ পুরো মৎস্যনির্ভর অর্থনীতিই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় প্রায় ৪৮ হাজার ৬০০ নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তবে এর বাইরে আরও কয়েক হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা সরকারি প্রণোদনা বা সহায়তার আওতায় আসতে পারেন না। নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলেরা কিছু খাদ্য সহায়তা পেলেও তা দিয়ে দীর্ঘ সময় সংসার চালানো সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীর নাব্যতা সংকট, ডুবোচর সৃষ্টি, সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, অবৈধ কারেন্ট জাল ও ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণেই আগের মতো ইলিশ মিলছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলেদের দাবি, সহজ শর্তে ঋণ, জ্বালানি তেলে ভর্তুকি, অনিবন্ধিত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনা, সমুদ্রদস্যু দমন, বৈরী আবহাওয়ার সময় বিশেষ সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার আরও গভীর সংকটে পড়বে।

জেলেদের ভাষায়, “সাগরে মাছ নেই, ঘরে খাবার নেই, অথচ ঋণের কিস্তি থেমে নেই।” তাই ইলিশের এই সংকট শুধু একটি পেশার নয়; এটি এখন বরগুনার উপকূলীয় অর্থনীতি ও হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সংকটে পরিণত হয়েছে।

এসকে/আরএন



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝