খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, নিপীড়ন ও নিরোধকেন্দ্রের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি যৌন হয়রানির বিষয় তদন্তের কোনো কমিটি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত পৃথক একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাঁরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
পরে গত শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শিক্ষক-প্রশাসনের সংহতি প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে রাত পৌণে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, রাতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি বাস্তবায়নের আগে ক্লাস-পরীক্ষায় না ফেরার ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ ছাড়া যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক—বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর স্ত্রীও গ্রেপ্তার হন।
এর আগে গত ১৮ জুন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গত বছরের আগস্টে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। পরে একটি অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও অন্য অভিযোগে দুই বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এসএস/আরএন