রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের অলি-গলিতে গড়ে ওঠা ছোট-বড় সব ধরনের খাবারের দোকানকে এখন থেকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। ফুটপাতের চায়ের দোকান, ভ্রাম্যমাণ খাবারের ভ্যান, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে খাদ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান—খাবারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করার বিধান রেখে সম্প্রতি নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার।
নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী, দেশের যেকোনো স্থানে সড়ক বা ফুটপাতের ওপর গড়ে ওঠা অস্থায়ী খাবারের দোকানকেও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এতদিন ধরে কোনো প্রকার তদারকি ছাড়া চলা এসব টং দোকান ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের ভ্যানগুলোকে নির্দিষ্ট একটি আইনি কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসাই সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ ও সক্ষমতা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ অস্থায়ী খাবারের দোকানের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকায় এগুলোকে কীভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, টং দোকানগুলোর রান্নার উপকরণ থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন ছিল। এই বিধিমালার মাধ্যমে দোকানগুলো একটি নিয়মের মধ্যে এলো ঠিকই, তবে এগুলোর খাবার সত্যিই নিরাপদ কি না তা নিয়মিত যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত প্রশাসনিক সক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সেটি বড় চিন্তার বিষয়।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সংস্থার চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাতারাতি পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে সব স্ট্রিট ফুডের দোকানকে লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে তদারকির আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা খাবারের মান যাচাই ও নিশ্চিত করার একটা বড় সুযোগ তৈরি হবে।
তবে নতুন এই বিধিমালার মূল প্রয়োগ ও কার্যকারিতা নিয়ে কড়া আপত্তি জানাচ্ছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান মনে করেন, নীতিমালাটি একতরফাভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কোনো স্পষ্ট ভিশন বা দিকনির্দেশনা নেই। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কাজের চেয়ে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও লাইসেন্স বাণিজ্যের সুযোগই বেশি বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এসএ