ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করবে বিএনপি
✎ জাহিদ বিপ্লব
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন ধরে দল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন শুরু করেছে সরকার। 

বিএনপি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে ভাবছে সরকার। পর্যায়ক্রমে দলের ত্যাগী অন্য নেতাকর্মীদের বিষয়েও একই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগে দলটির নেতাকর্মীরাও সন্তুষ্ট। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন মূল্যায়নের সম্ভাবনায় বুকে আশা বাঁধতে শুরু করেছেন। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোতে দক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গত জাতীয় নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মেনে যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন কিংবা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেককে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতীতে ছাত্রদল বা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ও পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বঞ্চিত হওয়া যোগ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন হবে। 

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে এসব নেতাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত করা হলে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে। 

সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কমিশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শূন্য বা মেয়াদোত্তীর্ণ পদগুলোতে পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তির সততা, দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনস্বীকৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা, রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের একটি তালিকা অনানুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

মৎস্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অবজারভারকে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেননি, আবার অনেকে দীর্ঘদিন কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন সেই শিক্ষিত ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃর্ণমূলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতি যে সম্মান দেখাচ্ছেন, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতেও এই মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনশক্তিকে কাজে লাগানোই সরকারের লক্ষ্য। যারা দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছেন এবং একই সঙ্গে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন, তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শূন্য পদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। 

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অবজারভারকে বলেন, সরকার গঠনের শুরুতে মূল্যায়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকলেও এখন সেই পরিস্থিতি নেই। দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারা ধীরে ধীরে মূল্যায়িত হচ্ছেন। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও অনেক নেতাকে মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এমপি অবজারভারকে বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেকে আত্মগোপনে থেকেছেন, বাড়িঘর ছেড়ে জীবন কাটিয়েছেন। তাদের মূল্যায়ন শুরু হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। সাংগঠনিক দায়িত্ব, চুক্তিভিত্তিক সরকারি নিয়োগ এবং স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়নের মাধ্যমে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন। 

মূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি ১২টি সংস্থার চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব মো. সামসুল আলম, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বন ও পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক এটিএম আবদুল বারী ড্যানী, যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. মামুন হাসান, সাবেক সহসভাপতি মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন সরকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শামসুজ্জামান সুরুজ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক এবং যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. কামরুজ্জামান দুলাল।

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝