কানাডার টরন্টোয় মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের বাইরে ফের গুলির ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো কনস্যুলেট ভবনটি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে কনস্যুলেটের বাইরে দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে লাইসেন্স প্লেটবিহীন একটি সাদা গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। কনস্যুলেট ভবনের বাইরের অংশেও গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি।
টরন্টো পুলিশের উপপ্রধান ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানিয়েছেন, ঘটনার সময় কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে অন্তত দুজন ছিলেন। তবে ভবনটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হওয়ায় তারা সম্ভবত গুলির শব্দ শুনতে পাননি।
ঘটনার পর পুলিশ অল্প সময়ের জন্য সন্দেহভাজন গাড়িটির পিছু নিলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরে ধাওয়া বন্ধ করে দেয়। হামলায় কতজন জড়িত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়েছে। তদন্তে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও সহায়তা করছে।
আরসিএমপির সুপারিনটেনডেন্ট জনাথন কো ঘটনাটিকে ‘আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।
এর আগে গত মার্চেও টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তারা ভাড়াটে বন্দুকধারীদের একটি বৃহত্তর চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
মার্চের ওই ঘটনার পর কনস্যুলেটের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ওই হামলাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল পুলিশ।
এদিকে, রোববার টরন্টোর ইহুদি মালিকানাধীন দুটি বেকারিতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্তত একটিতে গুলি চালানো হয়। তবে কনস্যুলেটের হামলার সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়টিও নাকচ করেনি তারা।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড টরন্টোয় সাম্প্রতিক গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ঘটনাটিতে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে সর্বশেষ হামলার উদ্দেশ্য কী এবং এর সঙ্গে আগের কোনো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি টরন্টো পুলিশ।
-টিএস