রিউমর স্ক্যানারের পরিসংখ্যানে ১৭৭ গণমাধ্যমের ভুল তথ্য শনাক্ত, তালিকায় শীর্ষে ইনকিলাব-ইত্তেফাক সহ বেশ কিছু বড় গণমাধ্যম। তুলনামূলকভাবে একেবারেই কম ভুল তথ্য দ্য ডেইলি অবজারভারে।
জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬- এই ছয় মাসে দেশের ১৭৭টি গণমাধ্যমে মোট ৬৮১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমর স্ক্যানার। এসব ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে ১৪৬টি ঘটনায়।
রিউমর স্ক্যানারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ও বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমের নাম ভুল তথ্য শনাক্তের তালিকায় রয়েছে। তবে এসব বড় গণমাধ্যমের তুলনায় দ্য ডেইলি অবজারভারে ভুল তথ্যের সংখ্যা মাত্র ২টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে ইনকিলাবে ২১টি এবং ইত্তেফাকে ১৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া যুগান্তর ও বিডি২৪ রিপোর্টে ১৪টি করে, বাংলাদেশ টাইমসে ১৩টি, কালবেলায় ১২টি এবং রূপালী বাংলাদেশে ১১টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বৈশাখী টিভি ও বার্তা বাজারে ১০টি করে এবং যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, ডিবিসি নিউজ, মানবকণ্ঠ ও সময়ের আলোতে ৯টি করে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। সময় টিভি, বাংলাদেশ প্রতিদিন, এনপিবি নিউজ ও বিডি টুডেতে ৮টি করে ভুল তথ্য পাওয়া গেছে।
রিউমর স্ক্যানারের তালিকায় আরও দেখা যায়, চ্যানেল২৪, আমার দেশ, আজকের পত্রিকা, ডেইলি সান, খবরের কাগজ, ফেস দ্য পিপল, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, দ্য নিউজ, বাংলা টিভি, ঢাকা টাইমস, দৈনিক সকাল ও ঢাকা টুডেতে ৭টি করে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে দ্য ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ, জাগোনিউজ২৪, দেশ টিভি, দেশ রূপান্তর, বাংলানিউজ২৪সহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ৫টি করে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। সমকাল, জনকণ্ঠ, বিডিনিউজ২৪, গ্লোবাল টিভি, চ্যানেল আই, এনটিভি, এখন টিভি, নয়া দিগন্তসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ৪টি করে ভুল তথ্য শনাক্তের তথ্য রয়েছে।
তালিকায় প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিবিসি বাংলা, ডয়চে ভেলে, ইউএনবি, বাংলাদেশ বেতার, নিউ এজসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমের ১টি করে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানে দ্য ডেইলি অবজারভারের ভুল তথ্যের সংখ্যা ২টি, যা তালিকায় থাকা অনেক বড় ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ছয় মাসের এই তথ্য থেকে দেখা যায়, ভুল তথ্য শনাক্তের সংখ্যার দিক থেকে দ্য ডেইলি অবজারভার তুলনামূলকভাবে নিচের সারিতে রয়েছে যা একটি নিভূল সঠিক গণমাধ্যমের উদাহরণ।এতে পাঠকের কাছে অবজারভারের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ছে,পাঠক প্রিয়তা ও বাড়ছে।
তবে ফ্যাক্টচেকিংয়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-ভুল তথ্যের সংখ্যা কম হওয়া ইতিবাচক হলেও একটি ভুল তথ্যও পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
-টিএস