রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার বিচার শুরু হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে এই মামলায় ৪১ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ জুলাই সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন জমা দেয়।
মামলায় ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, গত ১৪ মে ট্রাইব্যুনাল ডা. দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। এর আগে ৭ মে তাদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।
সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারের সঙ্গে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে ওই ঘটনাকে ঘিরে উসকানিমূলক প্রচারের অভিযোগ আনা হয় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরকেন্দ্রিক ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
এসএ