পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ফরিদপুরের একটি পরিবার সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। তারা বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহতরা হলেন-ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) ও মেয়ে জারা (১৫)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রিয়াদ থেকে প্রাইভেটকারে করে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রমের পর পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ভারী যানবাহন তাদের প্রাইভেটকারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তানিয়া তাহমিনা রিনা ও তার দুই সন্তান তাসবিক ও জারার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও তাদের বড় ছেলে নাবিল। তারা সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রিনার ভাই আবু সালেহ খোসব জানিয়েছেন, আহত দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। হঠাৎ এমন মর্মান্তিক সংবাদে পুরো পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে আবু সালেহ খোসব বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মরদেহ দেশে আনার কার্যক্রম চলছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর কোথায় দাফন করা হবে, সে বিষয়ে জুমার পর পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, তানিয়া তাহমিনা রিনার শ্বশুরবাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। তিনি স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন। তার বাবার বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সালথার আটঘর ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
-টিএস