গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কয়েক মাস আগে আলোচনায় এসেছিলেন হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। তখন ধর্মীয় বিতর্কের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছিল একটি বিষয় নিয়ে- এত বড় প্রকল্পের অর্থ কোথা থেকে আসবে?
হরিদাসের দাবি ছিল, পুরো প্রকল্পের অর্থায়ন হবে ভক্তদের অনুদানে। কিন্তু প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় অর্থের উৎস, অনুদান সংগ্রহের পদ্ধতি, দাতাদের পরিচয় কিংবা আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।
কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই প্রশ্নই এখন পৌঁছে গেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) টেবিলে।
মানি লন্ডারিং আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের আদেশে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন হরিদাস। সিআইডির অভিযোগ, তার নামে পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার সঙ্গে তার পরিচিত আয়ের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারী সংস্থার সামনে এখন একের পর এক প্রশ্ন- এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কারা জমা দিয়েছেন? কী উদ্দেশ্যে এত বিপুল লেনদেন হয়েছে? লেনদেনের পেছনে কি কোনো সংঘবদ্ধ আর্থিক নেটওয়ার্ক রয়েছে? নাকি এগুলো প্রকৃত অনুদান? থাকলে তার নথিপত্র কোথায়?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি।
এই তদন্তের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রামমূর্তি প্রকল্পও। কারণ, যে প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আগে জনমনে প্রশ্ন ছিল, এখন তদন্তকারীরাও বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস অনুসন্ধান করছেন। ফলে জনপরিসরের প্রশ্ন এবং তদন্তের প্রশ্ন- দুটিই একই জায়গায় এসে মিলেছে।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এখন পর্যন্ত সিআইডি প্রকাশ্যে এমন কোনো তথ্য দেয়নি, যাতে বলা যায় রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষিত অনুদানের অর্থই মামলার আলোচিত লেনদেনের অংশ। তদন্তের লক্ষ্য হলো অর্থের উৎস, লেনদেনের বৈধতা এবং অর্থের প্রকৃত ব্যবহার যাচাই করা।
হরিদাসের আইনজীবী অবশ্য সিআইডির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, মামলাটির আইনগত ভিত্তি নেই এবং তদন্ত শেষে সেটি স্পষ্ট হবে।
কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট- যে প্রশ্ন একসময় সামাজিক বিতর্কের অংশ ছিল, সেটিই এখন ফৌজদারি তদন্তের বিষয়। কয়েক মাস আগে যার উত্তর জনসমক্ষে মেলেনি, এখন সেই উত্তর খুঁজছে রাষ্ট্রের তদন্তকারী সংস্থা।
রামমূর্তি নির্মাণের জন্য ঘোষিত অর্থ এবং সিআইডির তদন্তে উঠে আসা আর্থিক লেনদেনের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো তদন্তকারী সংস্থা প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। তবে যে অর্থের উৎস নিয়ে কয়েক মাস আগে জনমনে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই উৎসই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে এ বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
-টিএস