যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য ‘ইরানের নতুন এক পরিকল্পনার বিষয়ে’ ইসরায়েল ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে বলে খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তি যখন চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন ইসরায়েলের এই সতর্কবার্তা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করল।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন লিখেছে, চলতি সপ্তাহেই ইসরায়েলের তরফে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
অন্য একটি সূত্র বলেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের’ বিষয়ে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ইসরায়েলের দেওয়া এই তথ্যটি সম্পূর্ণ নতুন এবং এতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা এসেছে বলে সিএনএন এর প্রতিবেদনের ভাষ্য।
সেখানে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যে তথ্যটি দিয়েছে, তা আসলেই শতভাগ সত্যি কি না, সেটা আমেরিকার নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেরা খতিয়ে দেখে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
আবার মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করার জন্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে ইসরায়েল ওই গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকতে পারে।
তাছাড়া মার্কিন গোয়েন্দাদের কেউ কেউ ইসরায়েলি গোয়েন্দ তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয়ে থাকেন।
অবশ্য ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ২০২০ সালের ড্রোন হামলায় হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারাও দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।
ওই সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউজ সিএনএন-কে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ রয়েছেন এবং পরে জানতে পেরেছেন, তেহরানের তালিকায় তার নাম সবার ওপরে রয়েছে।
তবে তিনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরেই কথাটি বলছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে সমবেত জনতা ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দিয়েছে। সে বিষয়টিও এসেছে সিএনএন এর প্রতিবেদনে।
বর্তমানে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে ‘সন্দেহ’ প্রকাশ করেছেন।
পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, যা এই আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নেতানিয়াহু শিগগিরই ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সফর করতে পারেন বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে সিএনএন এর প্রতিবেদনে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করে কূটনীতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে সেই দিনই মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ যুদ্ধবিমানগুলো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা হয়েছিল এবং পাইলটরা হামলার মহড়া চালিয়েছিলেন।
রণতরীর কমান্ডিং অফিসার ড্যান কিলার ক্রু সদস্যদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এসএ