চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে—প্রশাসনিক গতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, কঠোর ব্যয়সংকোচন, স্থবির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ভোগান্তি লাঘব করা। বিগত দীর্ঘ সময়ের শাসনতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক দূরদর্শী ও ইতিবাচক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিজের বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত দেওয়া, বিলাসবহুল ভিআইপি প্রটোকল সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন, নামকরণের রাজনীতি চিরতরে পরিহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনগণের অভাব-অভিযোগের তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন এবং বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিলের মতো সিদ্ধান্তগুলো ইতোমধ্যে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর উদ্দীপনা ও প্রশংসা সৃষ্টি করেছে। একই সাথে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কূটনীতি, দেশীয় শিল্প খাতের আধুনিকায়ন এবং মাঠ প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো কেবল কোনো সাময়িক সংস্কার বা গতানুগতিক দাপ্তরিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম, প্রাতিষ্ঠানিক মিতব্যয়িতা, নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রে রেখে একটি টেকসই শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছেন। নিয়মিত বিরতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প এবং সেগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি প্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রশাসনিক সফলতার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।
দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে 'অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রচলিত ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতির আওতায় বিভিন্ন বন্ধুপ্রতীম ও উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চীন, মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের রিজার্ভ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের গ্রাফকে ঊর্ধ্বমুখী করার চেষ্টা চলছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্যকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতে বৈদেশিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক কৌশলের প্রধান শক্তি।
দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার একাধিক যুগান্তকারী নীতিগত ও আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ—সব ধরনের উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, কর-কাটছাঁট ও প্রণোদনা, নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যবসা সহজীকরণের প্রক্রিয়াকে আমূল সংস্কার করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা, অন্যদিকে রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শিল্প খাতে এই নতুন বিনিয়োগ ও স্থিতি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক হাওয়া বইয়ে দিচ্ছে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্প খাতকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়, আর সরকার ঠিক এই জায়গাতেই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্পৃহা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর একটি নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় বাজেটের ওপর যেন হঠাৎ কোনো অতিরিক্ত ও নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য এই নতুন বেতন স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করার বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে কর্মচারীরা আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সরকারের পক্ষ থেকে সব পর্যায়ে কঠোর মিতব্যয়িতা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, বড় বড় আনুষ্ঠানিকতা, সেমিনার বা বিলাসী দাপ্তরিক খরচ পুরোপুরি বন্ধ বা সীমিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি স্তরে আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য কঠোর অডিট ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ, দুর্নীতিমুক্ত ও জনমুখী করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন সরকারি দপ্তরে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই ধারাবাহিক সংস্কার পদক্ষেপগুলো যদি দীর্ঘমেয়াদে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তবে দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি ও নাগরিক সেবায় এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক রূপান্তর ঘটবে।
সুশাসন ও নৈতিকতার এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি মাসে নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। একই সাথে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও যার যার সামর্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী স্বেচ্ছায় তাদের বেতনের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় তহবিলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এটি কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সম্পূর্ণ একটি নৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমূলক ও মিতব্যয়ী আদর্শ অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মূল বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রতি মাসে তিনি ১১,৫০০ টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছেন। বেতন ব্যাংকে আসার পর প্রতি মাসে চেকের মাধ্যমে তিনি এই টাকা সরকারি তহবিলে ফেরত দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন জনমুখী ও আন্তরিক উদ্যোগে মন্ত্রিসভার সব সদস্য অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রচলিত জাঁকজমকপূর্ণ ও অতিরিক্ত ভিআইপি প্রটোকল পরিহারের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছেন। জনদুর্ভোগ কমানো এবং সরকারি সম্পদের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সফরের সময় অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বহর এবং প্রশাসনিক রাজকীয় আয়োজন সীমিত রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে অতীতে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ রাখা, কৃত্রিম যানজট তৈরি বা সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করার চেনা দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনো বিশেষ সুবিধা ছাড়া সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলায় সড়কে যানবাহনের গতি ও স্বাভাবিকতা বজায় থাকছে, যা সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও সন্তুষ্টি এনে দিয়েছে।
ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক নামকরণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি সরে এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প, সড়ক বা স্থাপনার নাম তার নিজের, পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো রাজনৈতিক বংশের নামে রাখা হবে না। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (টিটিসি) নাম তার মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার প্রস্তাব এলে তিনি তা দৃঢ়তার সাথে নাকচ করে দেন। সরকারের এই অবস্থান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে একটি স্থায়ী, নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে নাগরিকদের মতামত ও অভিব্যক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের তোলা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, প্রশাসনিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা সামাজিক সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো যৌক্তিক দাবি বা অভিযোগ আলোচনায় এলে দ্রুত তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নজরে এনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা যেমন দ্রুত নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও বহুগুণ দৃঢ় হচ্ছে।
সরকারি ব্যয় সাশ্রয় ও রাষ্ট্রীয় মিতব্যয়িতার চমৎকার উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় নৈশভোজটি বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবেই এবার এই প্রচলিত আয়োজন থেকে সরে আসা হয়েছে, যার ফলে সরকারের এক দফায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে জানান, বিগত সরকারগুলোর আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ও বিবিধ খাতে বছরে যেখানে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অংকের খরচ হতো, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সাশ্রয়ী নীতির কারণে চলতি মাসে তা মাত্র ১১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। সরকারের এই মিতব্যয়ী নীতি রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগান্তকারী শৃঙ্খলা নিয়ে এসেছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং ভিআইপি মুভমেন্টের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও সময়ের অপচয় কমাতে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সরাসরি সচিবালয়ে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী নির্দেশনার ফলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত নিরাপত্তাজনিত প্রশাসনিক ব্যয় ও যানজটের বিড়ম্বনা কমছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা বাঁচছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, সরকারের এসব বহুমাত্রিক ইতিবাচক পদক্ষেপ দেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন ও জনবান্ধব অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এসএ